পরীক্ষায় লেখা শেষ করার কৌশল

পরীক্ষায় লেখা শেষ করার কৌশল!

পরীক্ষায় লেখা শেষ করার কৌশল!

পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে প্রায় সবারই একই কথা “ইশ” যদি আর একটু সময় পেতাম লেখার। আমরা অনেকেই এইভাবে আফসোস করি। কিন্তু টাইম ম্যানেজমেন্টও পরীক্ষার অংশ। ভালো পরীক্ষার পেছনে আপনার প্রস্তুতির ভূমিকা ৫০%, পরীক্ষার কক্ষে আপনি কী কৌশল অনুসরণ করেছেন তার ভূমিকাও ৫০%!

যদিও গণিত বা ইংরেজির মতো বিষয়গুলি সাধারণত বরাদ্দ সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়, অনেকেরই বর্ণনামূলক বিষয়গুলি সম্পূর্ণ করতে অসুবিধা হয়। ফলে ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারি না, আমরা বিষণ্নতায় ভুগি।তো, কীভাবে নিদ্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো লেখা শেষ করবেন? আসুন জেনে নেই কিছু কৌশল!

পরীক্ষার প্রথম পাঁচ মিনিট

প্রথম পাঁচ মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় শুধুমাত্র প্রশ্ন পড়ার জন্য সংরক্ষিত করা উচিত। প্রায়শই এমন হয় যে প্রশ্নটিতে  “পাঁচটি থেকে যেকোন তিনটি উত্তর করতে হবে” লেখা থাকতে পারে।কিন্তু মনোযোগ না দেওয়ায় পাঁচটিরই উত্তর দিতে অনেক সময় এবং প্রচেষ্টা নষ্ট হয়েছে! তাই প্রশ্ন পড়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সময় ভাগ করে নেয়া

প্রশ্নগুলি পড়ার পরে, আপনি কীভাবে কী লিখবেন তার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা। তারপর সময় ভাগ করার পালা। ধরুন সাতটি সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য আড়াই ঘণ্টা বা দেড়শ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে। তাই প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ২০ মিনিট করে ১৪০ মিনিট। বাকি ১০ মিনিট শুরুতে প্রশ্ন পড়ার জন্য ৫ মিনিট এবং রিভিশন জন্য শেষ ৫ মিনিট।

আপনি অন্য যে কোন উপায়ে সময় ভাগ করতে পারেন। শুধু সময়ই ভাগ করলেই হবে না, প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে! বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যা হয় তা হল আমরা প্রথম প্রশ্নের উত্তরগুলো যত্ন সহকারে লিখি এবং অনেক সময় নিই এবং শেষ পর্যন্ত গিয়ে সময় থাকে না, তখন খাতার উপর রীতিমতো ঝড় চলতে থাকে। খাতার প্রথম পেজ এবং শেষ পেজ পাশাপাশি রেখে দেখলে বোঝা মুশকিল হয়ে যায় যে এটি একই ব্যক্তির লেখা কি না।

সবচেয়ে সহজ প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা

আমরা যে প্রশ্নে ভালো (সোজা কথায় বলতে গেলে ‘কমন’ পড়েছে যে প্রশ্নটি!) উত্তর দিতে কম সময় লাগে। তাই আগে সহজ প্রশ্নের উত্তরগুলো দিয়ে দিন। এতে করে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়ার সাথে সাথে যে ব্যক্তি আপনার খাতা দেখবে তার আপনার সম্পর্কে ভাল ধারণা তৈরি হবে। সহজ প্রশ্নগুলি দ্রুত করার ফলে শেষে কিছু অতিরিক্ত সময় হাতে থাকবে যা আপনি কঠিন প্রশ্নগুলির মাধ্যমে চিন্তা করতে এবং সেগুলি লিখতে ব্যবহার করতে পারেন।

নিয়মিত লেখার অভ্যাস তৈরি

পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় সবাই অনেক বই পড়ে, ভাল প্রস্তুতি নিতে পড়ার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু লেখার চর্চা কয়জন করে? না লিখলে যে সমস্যা হয়- পরীক্ষার হলে লেখার বেশ ধীরগতির হয়ে যায় অনুশীলনের অভাবে হাত ব্যথা হয়। অনেকের লেখার লাইন আবার রেললাইনের মতো বাঁকে যায়।

পরীক্ষায় সময় স্বল্পতার কারণে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে এগুলো মনের উপর আরও বেশি চাপ তৈরি করে।দেখা যায় উত্তরটা খুব পরিচিত কিন্তু লেখা হয়নি! তাই আমরা যখন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিই, পড়ার পাশাপাশি কিছু সময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লিখে ফেলি এবং অনুশীলন করি। তাহলে হাতের লেখা ঝরঝরে, সুন্দর এবং দ্রুত হয় এবং পয়েন্টগুলো মনে রাখা সহজ হয়।

ঘন ঘন ঘড়ির দিকে না তাকানো

ঘন ঘন সময় না দেখে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর ঘড়ি চেক করার চেষ্টা করুন। অজান্তে ঘড়ির দিকে নজর রাখলে ঘড়িটি খুলে টেবিলে রাখতে পারেন। মনে রাখবেন সময়ের দিকে অতিরিক্ত নজর দিতে গিয়ে সময় যাতে নষ্ট করে না ফেলি।

উদ্বিগ্ন হলে চলবে না

পরীক্ষার হলে কখনই উদ্বিগ্ন হওয়া যাবে না। আপনি বেশি উদ্বিগ্ন হলেন তো হেরে গেলেন। দেখা যায় একটা প্রশ্নের উত্তর ঠিকমতো মেলাতে না পারলে মাথা গরম হতে থাকে, তখন বাকি প্রশ্নের উত্তরও খারাপ হতে থাকে!

অনেকে আবার একটি জিনিস করে, পরীক্ষার দিয়ে এসে গণনা শুরু করে কতগুলি নৈর্ব্যক্তিক উত্তর দিতে পেরেছে এবং কতগুলি প্রশ্ন তারা সঠিক হয়েছে। এই সময়ে এগুলো না করে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, আগের পরীক্ষার কথা চিন্তা করে সময় নষ্ট করাই উত্তম। আরও উদ্বেগের বিষয় হল যে আপনি যদি আপনার নৈর্ব্যক্তিক ইত্যাদি অনেক ভুল খুঁজে পান তবে আপনার খারাপ হয়ে যাবে এবং আপনার আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। পরীক্ষার সময় আত্মবিশ্বাস হারানোর চেয়ে খারাপ আর কিছু নেই।

যা হয়েছে তা ছেড়ে দিন। সব দিন এক রকম হয় না। কারো ভালো যায়, তো আবার কারো খারাপ যাবে এতাই স্বাভাবিক। তো বন্ধুরা আজকের আর্টিকেলটি এই পর্যন্ত। আর্টিকেলটি মনোযোগসহকারে পড়ার জন্য সবাইকে অভিনন্দন।


আরো পড়ুনঃ

বই পড়তে গেলেই আমাদের ঘুম আসে কেন?

কীভাবে একটানা অনেকক্ষন পড়াশুনা করা যায়?

সহজে উচ্চতর গণিত শেখার উপায় কী?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *